পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর ২০২৫ থেকেই কি চালু হবে ? সম্পূর্ন তথ্য কী জানাচ্ছেন আধিকারিকরা....
পুরুলিয়া, পশ্চিমবঙ্গের একটি পর্যটন সমৃদ্ধ জেলা, এবার পাচ্ছে একটি ঝাঁ চকচকে বিমানবন্দর। পুরুলিয়া শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে তৈরি হচ্ছে এই স্মার্ট বিমানবন্দর। ২০২৫ সাল থেকেই কি চালু হবে?
| প্রতীকী বিমন বন্দর চিত্র |
পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর: পর্যটন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত
| পর্যটন মানচিত্র পুরুলিয়া |
পুরুলিয়া, রুখা সুখা লাল মাটির জেলা, যেখানে এখনও বড় কোনও শিল্প বা কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। এই জেলা একদা কৃষি ও পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরেই এখানকার সাধারণ মানুষ একটি বিমানবন্দরের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের আশা, বিমানবন্দর হলে শিল্পপতিরা সহজে পুরুলিয়ায় আসতে পারবেন এবং এখানে গড়ে উঠবে শিল্প। এতে বাড়বে কর্মসংস্থান ও কমবে বেকারত্ব। এছাড়াও, পর্যটনের দিক দিয়েও অনেকটাই এগিয়ে যাবে এই জেলা। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে এবং জেলার বাসিন্দাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে।
| পুরুলিয়া |
পুরুলিয়ার ইতিহাসে বিমানবন্দরের ভূমিকা
| এয়ার স্ট্রিপ |
পুরুলিয়ার ইতিহাসে বিমানবন্দরের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, পুরুলিয়ার ছড়রাতে জরুরি অবস্থায় বিমান ওঠা-নামার জন্য একটি এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করা হয়েছিল, যা বর্তমানে এরোড্রাম নামে সুপরিচিত। ব্রিটিশদের ফেলে যাওয়া সেই এয়ারস্ট্রিপ এবার রাজ্য সরকারের উদ্যোগে একেবারে নতুন রূপে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক বিমানবন্দরে।
বিমানবন্দরের পরিকাঠামো
| প্রতীকী চিত্র |
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বিমানবন্দরটি ১৭২২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩৫০ মিটার প্রস্থযুক্ত হবে। রানওয়ে বড় হওয়ার কারণে ছোট, বড়, মাঝারি সব রকম বিমান নামতে পারবে এখানে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টের এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ার, রাইটস সংস্থা এবং ভূমি দপ্তরের আধিকারিকরা রানওয়ে এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং মাটি পরীক্ষা করে দেখেছেন। এদিন প্রদর্শনে উপস্থিত ছিলেন এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI) এর আধিকারিকরা, রাজ্য পরিবহন দপ্তরের বিশেষ সচিব, জেলা শাসক ও অতিরিক্ত জেলাশাসক।
নির্মাণ ও খরচ
| CM Mamta Banerjee |
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে এই বিমানবন্দর তৈরি করতে রাজ্য সরকারের তহবিল থেকে খরচ হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। যদিও এটি তৈরি করবে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI) ।
| AAI |
প্রতিবেশী জেলার উপকারিতা
এই বিমানবন্দরের ফলে কার্যত পুরুলিয়া সহ প্রতিবেশী জেলা বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, এবং পড়শী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের কিছু অংশের মানুষ উপকৃত হবে। এছাড়াও, দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা সহজেই পুরুলিয়া আসতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের জমি প্রদান
আটের দশকে কেন্দ্র সরকার এই জমিটি রাজ্যকে লিখিতভাবে প্রদান করে, যা বর্তমান বিমানবন্দর প্রকল্পের ভিত্তি।
উপসংহার
| প্রতীকী বিমান বন্দর |
পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর তৈরি হলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটবে বলে মনে করছেন জেলার বাসিন্দারা। বিমানবন্দরটি চালু হলে পর্যটকদের জন্য পুরুলিয়া আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে এবং শিল্পের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে জেলার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটবে এবং এটি পর্যটন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে।
পুরুলিয়ার বিমানবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি জেলার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং পুরুলিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। তবে কবে থেকে নির্মাণকার্য শুরু হবে সে এখন অধরা।
লেখা: দূর্বাদল চন্দ্র , পুরুলিয়া

Comments
Post a Comment